স্বর্ণসহ ধরা পড়ে শাস্তি হয় না।

স্বর্ণসহ ধরা পড়ে শাস্তি হয় না।

0
27

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী হলের ৮ নম্বর বেল্টের কাছে ঘুরঘুর করছিলেন সিভিল এভিয়েশনের (সিএবি) বেল্ট অপারেটর মো. ইলিয়াস উদ্দিন। সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তাকে আটক করেন ঢাকা কাস্টম হাউসের কর্মকর্তারা। স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি আকাশ থেকে পড়েন। এমন ভাব করেন যেন কিছুই জানেন না। একপর্যায়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লুকানো অবস্থায় দেড় কেজি ওজনের ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

শুধু ইলিয়াস উদ্দিনই নন, আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালানকারী চক্রের সঙ্গে এখন জড়িয়ে পড়ছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইনস ও সিভিল এভিয়েশনের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই তালিকায় সুইপার-ঝাড়–দার-ড্রাইভার থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জড়িত। স্বর্ণ ছাড়াও ইয়াবাসহ নানা পণ্য পাচারের সঙ্গেও জড়িত তারা। বছরের পর বছর ধরে চক্রের সদস্যরা প্রশাসনের নাকের ডগায় চালিয়ে যাচ্ছেন এসব অপকর্ম। কালেভদ্রে দু-একজন ধরা পড়লেও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নজির হাতেগোনা। কেউ কেউ জেল খেটে এসে আবার স্বপদে বহাল হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাতেনাতে স্বর্ণ ও বিভিন্ন অবৈধ পণ্যসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগের দোহাই দিয়ে কালক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাতেনাতে স্বর্ণ ও বিভিন্ন অবৈধ পণ্যসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগের দোহাই দিয়ে কালক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিভিল এভিয়েশনের উপপরিচালক (প্রশাসন) নুরুল ইসলাম বলেন, মাঝে মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে আমরা অভিযুক্ত কর্মীদের বিষয়ে জানতে পারি।
কিন্তুসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাদের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না।
সম্প্রতি বিপুল পরিমাণে স্বর্ণসহ গ্রেপ্তার হয় বিমানের মাইক্রোবাস চালক বিল্লাল হোসেন, ফ্লাইট ক্যাটারিং সার্ভিসের প্যানট্রিম্যান (বিএফসিসি) মো. ইফতেখারুল ইসলাম, শাহিনুর ইসলাম ও খন্দকার রুহুল আমিন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী জাফর ইকবাল ও জয়দেব দাস। তাদের বিরুদ্ধেও দৃশ্যত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, দেশি-বিদেশি একাধিক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলছে স্বর্ণ পাচার। শুধু রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই নয়, চট্টগ্রামের শাহ আমানত এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও রয়েছে পাচারকারীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। বাংলাদেশ বিমান ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং একাধিক রাজনৈতিক নেতা এই নেটওয়ার্কের সদস্য। আন্তর্জাতিক মাফিয়ারা বাংলাদেশিদের সঙ্গে আঁতাত করে তারা স্বর্ণ পাচার করে আসছে।
গত ২৭ এপ্রিল উত্তরার একটি বাসা থেকে সাত কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে র্যাব। এ সময় স্বর্ণ চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত কাজী মাহবুবুর রহমান এবং স্বর্ণের ক্যারিয়ার মির্জা জাকির হোসেনকে আটক করা হয়। র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, এই স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত সিএবির নিরাপত্তাকর্মী তৌহিদুল ও মাহবুব আলম। ২৮ এপ্রিল রাতে এই দুজনকেও গ্রেপ্তার করেন র্যাব সদস্যরা। কিন্তু গতকাল অবধি সিএবির কর্মচারী তৌহিদুল ও মাহবুবের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সিএবি কর্তৃপক্ষ।
গত ২৭ এপ্রিল উত্তরার একটি বাসা থেকে সাত কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ১৩ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে র্যাব। এ সময় স্বর্ণ চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত কাজী মাহবুবুর রহমান এবং স্বর্ণের ক্যারিয়ার মির্জা জাকির হোসেনকে আটক করা হয়। র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, এই স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে জড়িত সিএবির নিরাপত্তাকর্মী তৌহিদুল ও মাহবুব আলম। ২৮ এপ্রিল রাতে এই দুজনকেও গ্রেপ্তার করেন র্যাব সদস্যরা। কিন্তু গতকাল অবধি সিএবির কর্মচারী তৌহিদুল ও মাহবুবের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সিএবি কর্তৃপক্ষ।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রিয়াদের হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণে ইয়াবাসহ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রহিত ও শিশিরকে গ্রেপ্তার করেন দেশটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা। ওই ঘটনায় রহিত এখনো সৌদি আরবের কারাগারে রয়েছেন। কিন্তু দেশে ফিরে এসে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন শিশির। তার বিরুদ্ধে গতকাল পর্যন্ত ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এমনকি বিষয়টি তদন্তে বিমান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো কমিটি গঠন হয়নি; অভিযোগটি সত্য না মিথ্যা, তা-ও যাচাই করা হয়নি।
শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের প্রধান দুই বিমানবন্দর ঘিরে দেশি-বিদেশি ১০টি প্রভাবশালী স্বর্ণ চোরাচালানি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার শাহজালালে ৬টি, চট্টগ্রাম শাহ আমানতে ৩টি ও সিলেটে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। এই চক্রের সদস্যদের মধ্যে ৭জন স্বর্ণ এবং ৩জন মানি এক্সচেঞ্জ চোরাচালান ব্যবসা করেন। পাশাপাশি তাদের সহযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশ বিমানের বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা। এসব চক্রের মূলহোতারা সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকেন দুবাই। চট্টগ্রামে ১২ জনের একটি চক্র স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে তদারক করেন।
(দুরন্ত নিউজ রিপোর্টের)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here