ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

0
100

সম্পাদকীয়ঃ ৬ মার্চ ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী সহ শিক্ষক শিক্ষিকা কর্মচারী ও অভিভাবক, অতিথিদের নিয়ে মিলনমেলা ২০২০ সফলভাবে উদযাপন হলো।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্বর্ধনা ও তাদের হাতে খাবার সহ ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটের লোগো সম্বলিত ব্যাচ, ক্রেষ্ট ও ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত স্বরণীকা “অনন্যা” উপহার দিয়ে বরণ করা হয়। 
মিলনমেলাটির উদ্ভোধন হয় কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ ও ত্রিপিটক পাঠ,জাতীয় সংগীত এর মধ্য দিয়ে।
স্বাগত বক্তব্য দিয়েছেন মিলনমেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব জনাব সাইদা মমতাজ জোবাইদা ইকবাল, ইন্সট্রাক্টর ও বিভাগীয় প্রধান ( ভারপ্রাপ্ত) ইলেকট্রনিক্স বিভাগ, যিনি এ প্রতিষ্ঠানের প্রথম ব্যাচের (১৯৮৫) প্রাক্তন ছাত্রী ছিলেন। তিনি বলেন,যারা এ আয়োজনের নেপথ্য কারিগর এবং মিলনমেলা ২০২০ কে সফল করতে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সকলেের প্রতি কৃতজ্ঞ।

ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটের অধ্যক্ষ সাহানা বেগম (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন,
২০২১ সালের রুপকল্প বাস্তবায়ন করেই ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী সমৃদ্ধ উন্নত দেশ গড়তে আমাাদের সরকার গ্রহন করেছে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা। এ সফলতা নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া অসম্ভব। তাই এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব মন ও মননে লালন করে।

তাই পহেলা এপ্রিল ২০১৬ সালে প্রথম জব ফেয়ার এর আয়োজন করা হয়।উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রতি বছরই জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়।

২০১৯ সালে জব ফেয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি উপস্থিত থেকে জবফেয়ার ১৯ উদ্ভোধন করেন।এতে ৪০ টি চাকুরীদাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং ৬৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তন্মধ্যে ১৩২ জনের চাকুরী পায়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাতে চাকুরীর নিয়োগপত্র তুলে দেন।

এছাড়া বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারিগরি দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০১৭ এর ২৯ জানুয়ারি একটি সেমিনারের আয়োজনের মধ্যে দিয়ে Center For Disability in Development (CDD) এর সাথে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

অতিথি হিসেবে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক অধ্যক্ষ এম এ করিম তার স্মৃতিচারণমুলক বক্তব্যে বলেন,
ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটে ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছিলেন। তার কর্মজীবনের স্মৃতি উল্লেখ করে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো অতন্ত্য নাজুক ছিল এবং ৮৮ র বন্যার সময় পুরো ভবনের নিচতলা ডুবে যায় এবং বিপুল ক্ষতিসাধন হয়। এ প্রতিষ্ঠান আজ সুপ্রতিষ্ঠ ভিতে দারিয়ে। এ মিলনমেলায় অংশ নিয়ে তিনি আনন্দিত।

অতিথি হিসেবে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত সাবেক ইলেক্টনিক্স বিভাগীয় প্রধান কানিজ ফাতিমা তার স্মৃতিচারণমুলক বক্তব্যে বলেন,ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউটের
শুরু থেকে ৩২ বছর কর্মজীবনের প্রায় পুরো সময়টা কাটিয়ে এখান থেকে অবসরে গেছেন।তিনি বলেন, ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠা হয়ে সুদীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে কারিগরি জ্ঞানে অতন্ত্য সফলভাবে নারী শিক্ষায় গুরুত্বপুর্ণ অবদান রেখে চলছে।প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্বর্ধনায় প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের সাথে মিলিত হয়ে আমি আনন্দিত।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এর মিডিয়া সেল এর সেচ্ছাসেবী ও সমাজকর্মী Channel 21bd .com এর সম্পাদক নাদিরা দিলরুবা তার স্মৃতিচারণে শৃঙ্খলাপূর্ন ও সেবামুলক কাজের সূতিকাগার বলেন অত্র প্রতিষ্ঠানকে।সেবামুলক কাজ ও আবৃতি ও লেখালেখিতে সেসময় উদ্বুদ্ধ করার জন্য শিক্ষিকা রোভার স্কাউট লিডার আখতার জাহানকে ও তৎকালীন ইলেক্টনিক্স ডিপার্টমেন্ট এর শিক্ষিকা কানিজ ফাতিমা ও গনিত শিক্ষিকা আতিয়া সুলতানার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তার সেবামুলক কাজকে সংক্ষেপে তুলে ধরেন।তিনি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এর ২৫বারের সেচ্ছারক্তদাতা ও সেচ্ছাসেবী উদ্ধারকর্মী।লাশ উদ্ধার ও মৃতদেহ সুরতহাল ও দাফনকার্যক্রম এর সাথে সম্পৃক্ত। তিনি তার শিক্ষক শিক্ষিকা ও তার ৯৩-৯৪ সেশনের উপস্থিত ৬ জন সহপাঠীকে ও আয়োজক কমিটিকে ধন্যবাদ জানান।এছাড়া 
মুজিব শতবর্ষকে উ্ৎসর্গ করে সমাজকর্মী নাদিরা দিলরুবা তার স্বরচিত কবিতা “বঙ্গবন্ধু তোমাকে ভালবেসে ” কবিতা আবৃতি করেন।

সমাপনী বক্তব্য দিয়েছেন অত্র প্রতিষ্ঠান এর প্রাক্তন শিক্ষার্থী জনাব আরিফা পারভিন,ইন্সট্রাক্টর ও বিভাগীয় প্রধান,ইলেক্ট্রমেডিকেল বিভাগ, 
তিনি তার সমাপনী বক্তৃতায় প্রাক্তন শিক্ষার্থী সহ শিক্ষক শিক্ষিকা, কর্মচারী ও অভিভাবক, অতিথিদের উদ্দেশ্যে বলেন, স্কাউট সদস্যদের বিশেষ দীক্ষায় অংশগ্রহণ ও ঢাকার প্রতিটি জাতীয় দিবসের ও বিশেষ আয়োজনে অত্র প্রতিষ্ঠান এর স্কাউটসবৃন্দ রোভার স্কাউট লিডার ইন্সটাক্টর আখতার জাহানের নেতৃত্বে ১৯৯৬ সাল থেকে নিরলস সেবা দিয়ে আসছে। প্রতি বছর সেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সেবামুলক কাজে অংশগ্রহণ ও উদ্ভুদ্ধ করা হয়।এছাড়া শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট এর জন্য মোটিভেশনাল স্পিচ, ইন্সপায়রিং স্পিচ, গাইড লাইন ফর লাইফ লাইন,সিভি রাইটিং, সাক্ষাতকার প্রস্তুতি নিয়ে ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়।


প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত স্বরণীকা “অনন্যা” মুজিব শতবর্ষকে উ্ৎসর্গ করা হয়। স্বরণীকা “অনন্যা” তে স্মৃতিচারণ সহ কবিতা,লেখা ও বিভিন্ন সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষগণ সহ অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ৬৩ জনের গঠিত আহবায়ক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকার উল্লেখ করা হয়।মিলনমেলা ২০২০ উদযাপনের স্বরনিকা প্রকাশনা কমিটির আহবায়ক ছিলেন ভারতী বিশ্বাস ও সায়েমা আখতার।

মিলন মেলার উদ্যোক্তা হিসেবে ছিলেন প্রাক্তন সিনিয়র রোভার মেট- আঞ্জুমান নাহার শান্তা,ফাতেমা তুজ জোহরা, শামীমা আক্তার, সুমাইয়া হাবিবা,নীলা।
উপস্থাপনায় ছিলেন অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর তিনজন শিক্ষিকা ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী 
জনাব ভারতী বিশ্বাস,জনাব সায়মা, জনাব রোমানা। পুরো প্রোগ্রামটির সহযোগিতা ছিলেন ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক এর সকল শিক্ষকবৃন্দ ও রোভার স্কাউট এর সকল সদস্যবৃন্দ।
শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষিকা ও তাদের সন্তানদের অংশগ্রহণে সারাদিনব্যাপী মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আগত সবাই উপভোগ করে।২০২০ মিলনমেলায় আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here