মানবিক সহায়তা প্রদানে শীর্ষে তুরস্ক

0
36

২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী মানবিক সহায়তা প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে তুরস্ক । গত বছর দেশটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮.০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে।

এমন তথ্য উঠেছে এসেছে লন্ডন-ভিত্তিক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভস-এর বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা কর্মসূচি প্রকাশিত এক রিপোর্টে।

এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ২০১৭ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। ২.৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছে জার্মানি।

আর চতুর্থ স্থানে যুক্তরাজ্য (২.৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে (২.২৪) ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

গত ১৯ জুন প্রকাশিত রিপোর্টের বিষয়ে বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই দেয়া এই মানবিক সহায়তা তুরস্কের মানবিক কূটনীতির শক্তি বৈশ্বিকভাবে আবারও স্বীকৃত হলো।

রিপোর্টের বরাত দিয়ে মন্ত্রণালয় আরো জানায়, জাতীয় আয় এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে ০.৮৫ অনুপাত ধরে রেখে তুরস্ক বিশ্বের ‘সবচেয়ে দানশীল জাতি’ হিসেবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

তুরস্কের ‘সম্পদ তহবিল’ এর নতুন চেয়ারম্যান এরদোগান
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান তুরস্কের সম্পদ তহবিলের নতুন চেয়ারম্যান ঘোষিত হয়েছেন। খবর তুরস্কের গণমাধ্যম ডেইলি
সাবাহ’র।

বুধবার দেশটির সরকারি এক গেজেটে এমন ঘোষণা দেয়া হয়।

গেজেট ঘোষণায় আরো বলা হয়েছে, তুরস্কের অর্থমন্ত্রী বেরাট আলবাইরাক এখন থেকে সম্পদ তহবিলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, তুর্কি অর্থমন্ত্রী বেরাট আলবাইরাক প্রেসিডেন্ট এরদোগানের জামাতা।

এছাড়া জাফর সনমেজ সম্পদ তহবিলের সাধারণ সম্পাদক মনোনিত হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট এরদোগান গত বছর মন্তব্য করেছিলেন, সম্পদ তহবিল কেন্দ্রীক কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন হয়নি। সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গড়ে তুলতে তিনি জোর দিয়েছিলেন।

২০১৬ সালে তুরস্ক সরকার এই ‘সম্পদ তহবিল’ গড়ে তোলে। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থ জোগাড়ের চেষ্টা থেকে সরকার এই তহবিল গঠন করেছে।

তুরস্কের সব স্কুলে মসজিদ বাধ্যতামূলক করেছে এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান দীর্ঘদিন ধরে দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানের খোলনলচে পাল্টানোর কাজ করে যাচ্ছেন।

তার প্রচেষ্টায় আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্ক কর্তৃক প্রবর্তিত অনেক নিয়ম-কানুনই আর বলবৎ নেই। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করল দেশটির সরকার।

নতুন নির্দেশনায় দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। দেশের সব স্কুলে মসজিদের পাশাপাশি অজুর স্থান সহ ডাইনিং রুম, প্রশাসনিক কার্যালয়, ক্যান্টিন, রান্নাঘর, আর্কাইভ রুম ও যথেষ্ট পরিমাণ টয়লেট থাকারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তুরস্কের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তুরস্ক সরকার দেশটিতে আট হাজার ৯৮৫টি মসজিদ নির্মাণ করেছে।

২০১৪ সালে তুরস্ক সরকার দেশটির সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি করে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই মধ্যে প্রায় সব মসজিদ নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

তুরস্কের সরকারি বিদ্যালয়গুলোতে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী ও কোরআনে কারিমের নির্বাচিত কিছু অংশ মুখস্থ করতে হয় তাদের।

ইসলামি শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, ‘আমরা ধর্মপরায়ণ এক যুব প্রজন্ম তৈরি করতে চাই। আপনারা কী মনে করেন যে একেপি পার্টি একটি ইসলামবিদ্বেষী প্রজন্ম তৈরি করবে? এটা কখনও আমাদের মিশন হতে পারে না। আমরা এমন এক প্রজন্ম তৈরি করতে চাই, যারা রক্ষণশীল গণতন্ত্রবাদী ও গণতান্ত্রিক। যারা নাস্তিক নয়; জাতির নীতি-নৈতিকতা ও মূলবোধকে যারা বুকে লালন করবে।’

২০১৩ সালে এরদোগান সরকার হিজাবের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। ২০১৫ সালে তুরস্কের সংসদের ২৫তম অধিবেশনে আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২১ জন নারী সংসদ সদস্য হিজাব পরে শপথ বাক্য পাঠ করেন। একই বছরের আগস্টে ‘আয়েশা গোরসেন’ প্রথম হিজাবি নারী হিসেবে তুরস্ক সরকারের মন্ত্রী নিযুক্ত হন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here